আপোষহীন নেতা,

কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম: সংগ্রাম ও নেতৃত্বের প্রতীক


যে নাম মুক্তির ইতিহাসে জ্বলজ্বল করে,

যে নাম সাহসিকতার মানচিত্র এঁকে দেয়।

কর্নেল অলি আহমদ, তুমি সেই আলোকবর্তিকা,

তোমার পথচলা জাতির জন্য এক উজ্জ্বল দিশা।


১৯৩৯-এর এক সোনালি সকালে,

চট্টগ্রামের মাটি থেকে এক সূর্য উঠেছিল।

তোমার শৈশব, তোমার স্বপ্ন,

সবটাই যেন এক এক দিন দেশের জন্য নিবেদিত।


১৯৭১ সালে যখন জাতি দাঁড়াল অস্তিত্বের দ্বারে,

তুমি হয়ে উঠলে নেতৃত্বের এক জ্যোতিষ্ক।

ষোলশহরের সেই রাত,

যখন গর্জে উঠল শত্রুর বন্দুক,

তোমার চোখে তখন মুক্তির দীপ্তি।

তুমি শপথ নিলে—এই মাটি হবে স্বাধীন,

এই পতাকা উড়বে একদিন মুক্ত আকাশে।


তোমার সাহসিকতার মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়েছিল চট্টগ্রামের সেই যুদ্ধক্ষেত্র।

তোমার সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশ,

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিল দৃঢ় কণ্ঠস্বর।

তোমার অনুপ্রেরণায়ই সেই মুহূর্তে

স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলার ঘরে ঘরে।


তুমি ছিলেন একজন যোদ্ধা,

তোমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের বাজে ছিল যুদ্ধের কৌশল।

তোমার পরিকল্পনায় বাঁচল কত শত প্রাণ,

তোমার নির্দেশে ভাঙল শত্রুর মরণফাঁদ।


যুদ্ধ শেষে তুমি থেমে যাওনি,

তুমি দেশ গড়ার নতুন যুদ্ধে নেমেছিলে।

তোমার হাত ধরেই শুরু হলো জাতীয় নেতৃত্বের যাত্রা,

যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে তৈরি করেছো অগণিত পথ।

তোমার কাজের ফল, যমুনা সেতু আজো দাঁড়িয়ে আছে,

তোমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার এক অবিস্মরণীয় স্মারক।


তুমি রাজনীতির এক সৎ এবং আপোষহীন নেতা,

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থেকে এলডিপির কর্ণধার।

তোমার প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি বক্তব্য

গণতন্ত্রের মশাল জ্বালিয়েছে শত সংকটে।


তুমি রক্ত দাওনি,

তবে তুমি দিয়েছো মুক্তির কৌশল,

তুমি দিয়েছো সাহস,

তুমি দিয়েছো নেতৃত্বের দিশা।


কর্নেল অলি আহমদ,

তোমার জীবন আমাদের জন্য এক পাঠশালা।

তোমার সংগ্রাম, ত্যাগ আর নেতৃত্ব

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হবে প্রেরণার উৎস।


তুমি ইতিহাসের পাতা নয়,

তুমি নিজেই এক জীবন্ত ইতিহাস।

তুমি চিরকাল বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে,

স্বাধীনতার ও গণতন্ত্রের এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে।

    ★ Abak Hossain Roni