যিনি স্বাধীনতার ঘোষণার সাক্ষী, প্রথম অস্ত্রধারী বীর — এখনই সময় ড. কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে জাতীয়ভাবে সম্মান ও পাঠ্যপুস্তকে স্থান দেওয়ার


আবাক হোসাইন রনি
প্রচার সম্পাদক
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম অস্ত্রধারী মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধ চলাকালীন প্রথম ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত সৈনিক। কিন্তু তাঁর অবদানের প্রকৃত স্বীকৃতি এখনো জাতীয়ভাবে প্রদান করা হয়নি। ইতিহাসে, পাঠ্যপুস্তকে কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে, তাঁর নাম এখনো যেমনভাবে আসা উচিত ছিল তেমনভাবে উঠে আসেনি।

স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক সাক্ষী

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ—এক বিভীষিকাময় রাতে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দেশের উপর আক্রমণ চালালে স্বাধীনতার ঘোষণা হয়ে পড়ে সময়ের দাবি। কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সেদিন নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু তিনি এই মহান দায়িত্ব নিজে না নিয়ে, তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করান।

তিনি তাঁর উচ্চপদস্থ অফিসারের প্রতি সামরিক শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রেখে, স্বাধীনতার ঘোষণাটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে প্রচার করান। এই মহান সিদ্ধান্তই জাতিকে উপহার দেয় সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা—“আমি মেজর জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছি…

ড. কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রম শুধু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি, বরং নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা: সময়ের দাবি

আমরা দাবি জানাই, ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের নামে একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হোক। এই ইনস্টিটিউট হবে—

মুক্তিযুদ্ধ গবেষণার কেন্দ্র

তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস

রাজনৈতিক ইতিহাস চর্চার প্ল্যাটফর্ম

দেশপ্রেম ও মূল্যবোধ শেখার পাঠশালা

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ এবং মাদ্রাসা পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে কর্নেল অলি আহমদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর যুদ্ধজীবন, স্বাধীনতার ঘোষণার পটভূমিতে তাঁর আত্মত্যাগমূলক ভূমিকা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাতি গঠনে ভূমিকা—সব কিছুই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জানা অপরিহার্য।

সরকার যদি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে, তাহলে এখনই সময় ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া, তাঁর নামে একটি ইনস্টিটিউট গঠন এবং শিক্ষাক্রমে তাঁর ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার। এভাবে সরকার দেখাতে পারে, তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান জানাতে জানে।

একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, যিনি ইতিহাসের জন্মক্ষণে উপস্থিত থেকেছেন, দেশের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন—তাঁর সম্মান শুধু তাঁকে নয়, পুরো জাতিকে মর্যাদাবান করে তোলে।
আমরা সেই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, বিকৃত নয়—সত্য ইতিহাসের আলোয়।
এটাই আমাদের দাবি, এটাই আমাদের প্রার্থনা।